‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ বেশে নারীবিদ্বেষী কাণ্ড, সেই যুবক আটক
পাগলের বেশ ধরে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও বানিয়ে নারীদের প্রতি অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে খালিদ মাহমুদ হৃদয় খান নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার থানা-পুলিশ। সোমবার (১০ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খালিদ মাহমুদ হৃদয় খান ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করতেন, যেখানে তিনি মানসিক রোগীর অভিনয় করে মেয়েদের হিজাব না পরার কারণে অশালীন মন্তব্য করতেন। এসব ভিডিওতে তিনি কখনো বলতেন, ‘হিজাব না পরলে ধর্ষিত হবেন’, আবার কখনো কম বয়সী মেয়েদের উদ্দেশ করে কটূক্তি করতেন।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি দুই কিশোরীকে ‘হিন্দু’ উল্লেখ করে কটাক্ষ করেন এবং তাদের হিজাব বা বোরকা পরার নির্দেশ দেন। তাঁর এমন বক্তব্য শুধু নারীবিদ্বেষই নয়; বরং ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কাও সৃষ্টি করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হৃদয়ের এ কর্মকাণ্ড সামাজিক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা এবং নারীদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির এক জঘন্য প্রচেষ্টা। তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সাভার মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহীনুর কবীর। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নারীদের উত্ত্যক্ত করা এবং নারীদের প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির চেষ্টার অপরাধে খালিদ মাহমুদ ওরফে হৃদয় খানকে আটক করা হয়েছে। আমিনবাজারের মধ্যপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে। তিনি টিকটক করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানাভাবে নারীদের হেয়প্রতিপন্ন করেছেন।এসবের মাধ্যমে তিনি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন, সমাজে ধর্ষণের জন্য মেয়েরাই দায়ী। খালিদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।